‘রাগ’ যখন বড় সমস্যা হয়ে দাড়ায়

ছোট ছোট কারণেই অযথা রেগে যাচ্ছেন৷ মা-বাবা কিংবা সঙ্গীটিকে যখন যা খুশি বলে ফেলছেন রাগের বশে৷ পরে নিজে বুঝতেও পারছেন যে এমন না করলেই ভালো হত৷ কিন্তু ওই মুহূর্তে নিজেকে আটকাতে পারছেন না৷ কী করে নিজেকে সামলাবেন?
১) ভেবে চিন্তে কথা বলুন৷ কারণ একবার যা বলে ফেলছেন তা কিন্তু কখনোই ফেরানো সম্ভব নয়৷ তাই কার সাথে কথা বলছেন আর কী বলছেন তা ভাবুন৷ এটাই ভাবুন না, আপনার প্রিয় যে কেউই এই কোথায় আঘাত পেতে পারেন৷ দেখবেন অনেক সুবিধা হবে৷
২) নাচ, গান, আবৃত্তি, ছবি আঁকা, যা ইচ্ছা করে করুন৷ সৃষ্টিশীল কাজের সাথে যুক্ত থাকলে দেখবেন সহ্যশক্তি অনেক বাড়বে৷ রাগও আসবে কম৷
৩) খুব রাগ হলে, না চেঁচিয়ে চুপ চাপ বসে এক থেকে দশ পর্যন্ত গণনা করুন, অথবা দশ থেকে এক৷ দেখবেন রাগ উধাও হয়ে যাবে খুব সহজে৷
৪) নিয়মিত শরীরচর্চা করুন৷ জগিং, সুইমিং, বাস্কেটবল, ভলিবল, বক্সিং এসবের সাথে মেতে নিজের রাগ আর ফ্রাস্টেশনকে ভুলে কাটাতে পারেন অনেক সময়৷ যোগ ব্যায়াম কিংবা মেডিটেশনও উপকারী৷
৫) মনে যা আছে সেটা লিখে ফেলুন৷ ডায়েরিতে হোক কিংবা ফেসবুকের ওয়ালে৷ অনেক হালকা লাগবে৷ ব্লগিং-ও শুরু করতে পারেন৷
৬) মনের কষ্ট কখনোই চেপে রাখবেন না৷ অনেকসময় সেই থেকেও রাগ আসতে পারে৷ তাই কোনো সমস্যা হলে শেয়ার করুন৷ বন্ধু, সঙ্গী কিংবা মায়ের কাছেও আপনার কথা বলতে পারেন৷ তারা আপনাকে ভালোবাসেন তাই আপনার কথা নিশ্চয়ই শুনবেন৷
৭) কেউ আপনাকে রাগানোর চেষ্টা করলে পাত্তা দেবেন না৷ বরং এড়িয়ে চলে যান৷ তাতে যে রাগাচ্ছে সে বোকা বনে যাবে৷
৮) রাতে ঠিক করে ঘুমান৷ সেক্ষেত্রে সমস্যা থাকলে ডাক্তার দেখান৷ ঘুমাতে যাওয়ার আগে কিছু ভাববেন না৷ আর ফোন বা ই-মেইল না ঘাটাই ভালো৷
৯) নিজেকে সময় দিন৷ টাইম আউট আপনারও দরকার৷ তাই চুপিচুপি বেরিয়ে পড়ুন কোথাও৷ নিজের পছন্দের কফিশপে কফিতে চুমুক দিন৷
১০) অনেকদিন কাজের মধ্যে থাকতে থাকতেও রাগ আসে৷ তাই ছোট একটা ট্যুর প্ল্যান করে ফেলতেই পারেন৷ অনেক সময় হাওয়া বদল মন ভালো করে দেয়৷ ফলে রাগও আসে না ধারে কাছে৷
১১) এত কিছুর পরেও যদি কোনো লাভ না হয় তাহলে চিকিৎসকের সাহায্য নেয়া উচিত৷

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.