রোগ প্রতিরোধে ঢেঁড়স

সুস্বাস্থ্যের জন্য ঢেঁড়স অত্যন্ত পুষ্টিকর ও ঔষধি গুণসম্পন্ন একটি সবজি। এটি সিদ্ধ ও ভাজি দুইভাবেই খাওয়া যায়। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, লোহা ও ভিটামিন এ, বি, সি, ক্যারোটিন, ফলিক এসিড, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, নিয়াসিন, অক্সালিক এসিড প্রভৃতি রয়েছে। এর রিবোফ্লাভিনের পরিমাণ বেগুন, মূলা, টমেটো ও শিমের চেয়েও বেশি। তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এটি খাওয়া ভালো।

জেনে নিন ঢেঁড়সের আরও নানা ওষুধি গুণের কথা-

শ্বাসকষ্ট কমায়
অ্যাজমা রোগীদের হারবাল চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় ঢেঁড়স। এর বীজের তেল শ্বাসকষ্ট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ত্বকের যত্নে
ত্বকের ময়লা পরিষ্কার করতে প্রতিদিন ঢেঁড়স খাওয়ার বিকল্প নেই। নিয়মিত ঢেঁড়স খেলে ব্রণ কম হয়। এটি খাওয়ার ফলে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়, ফলে ত্বকের উজ্জ্বলতাও বাড়ে।

চুলের যত্নে
ঢেঁড়সকে প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এটি ব্যবহারে চুল পড়া কমে এবং চুলের উজ্জ্বলতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখে এটি।

হাড় ও দাঁতের যত্নে
প্রতি ১০০ গ্রাম ঢেঁড়সে রয়েছে ৬৬ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম ও ১.৫ মিলিগ্রাম লোহা। এটি হাড়কে মজবুত করে। আবার দাঁত ও মাড়ির রোগেও ঢেঁড়স উপকারী।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে
ব্লাড সুগার কমাতে এর বিকল্প নেই। প্রতি ১০০ গ্রাম ঢেঁড়সে ০.০৭ মিলিগ্রাম থায়ামিন, ০.০৬ মিলিগ্রাম নিয়াসিন ও ০.০১ মিলিগ্রাম রিবোফ্লাভিন রয়েছে। যা ডায়াবেটিস রোগীর স্নায়ুতন্ত্রে পুষ্টি সরবরাহ করে সতেজ রাখে। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় এটা রাখা উচিত।

প্রোস্টেট গ্রন্থির অসুখে
ঢেঁড়স প্রসাবের প্রবাহ বৃদ্ধি করে। এতে প্রোস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি কমে আসে। এটি পানিতে সেদ্ধ করে তরল পিচ্ছিল পদার্থ ছেঁকে পান করলে প্রসাবের প্রবাহ বাড়বে।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
ঢেঁড়সে প্রচুর আঁশ থাকায় তা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। এটি সহজে হজম হয় বলে বিপাকক্রিয়ায় সহায়তা করে।

ক্যান্সার প্রতিরোধ করে
ঢেঁড়সে উচ্চ মাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা ক্যান্সার রোগ সৃষ্টিকারী কোষগুলোকে ধ্বংস করে। ফলে সহজেই ক্যান্সার নিরাময় হয়।

সতর্কতা
অন্যান্য সবজির মতো এতেও সামান্য পরিমাণে অক্সালিক এসিড রয়েছে। তাই কিডনিতে পাথর হলে এ সবজিটি এড়িয়ে চলাই ভালো।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.