লন্ডনের রয়াল এ্যালবার্ট হলে বাংলাদেশের শিল্পীদের গান

রিটেনে বাংলা গানের অনুষ্ঠান প্রায়ই হয়, কিন্তু রয়াল এ্যালবার্ট হলের মতো নামকরা মিলনায়তনে অনেক দেশের বড় বড় তারকা বাংলাদেশের শিল্পীদের গান শোনার সুযোগ খুবই বিরল।

লন্ডনের এই বিখ্যাত মিলনায়তনে পৃথিবীর নামকরা শিল্পীরা গিয়ে অনুষ্ঠান করেন এবং অনেক সময় সেই অনুষ্ঠানটিই পরে রেকর্ড বা সিডি আকারে বেরোয়।

এখানে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের অনুষ্ঠান প্রায়ই হয়, কিন্তু তার পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে দু’জন শিল্পী এসে এখানে গান করছেন – এটা বোধহয় এই প্রথমবার দেখা গেলো রোববার সন্ধ্যায়। এই দুই কণ্ঠশিল্পী ছিলেন অদিতি মোহসিন এবং লুভা নাহিদ চৌধুরী।
সেতার কিংবদন্তী পন্ডিত রবিশংকরের স্মৃতি উৎসর্গীকৃত অনুষ্ঠানটির লক্ষ্য ছিল ১৯৭১-এ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ভুমিকার প্রতি সম্মান জানানো।

এতে অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন রবিশংকরের মেয়ে আনুশকা শংকর – যিনি এখন নিজেই পৃথিবীর একজন বিখ্যাত তরুণ সঙ্গীত তারকা।

তিনি বলছিলেন, “বাংলাদেশের সাথে আমার বাবা এবং আমার পরিবারের যে যোগাযোগ – তা সত্যি অনন্য। রবিশংকরের কনসার্ট ফর বাংলাদেশ সঙ্গীতের ইতিহাসে এক মহাকাব্যিক ঘটনা। কাজেই আমার বাবাকে এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যে সম্মানিত করা হলো, এবং এতে আমি বাজাতে পারলাম – এতে আমিও সম্মানিত বোধ করছি।”
আনুশকার মা – রবিশংকরের স্ত্রী সুকন্যা রাজনও উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে। তিনি বলছিলেন, বাংলাদেশের মানুষ রবিশংকরের ভুমিকাকে মনে রেখেছেন দেখে তিনি আপ্লুত হয়েছেন।

“বাংলাদেশের মানুষ তাকে স্মরণ করছে এটা আমার হৃদয় স্পর্শ করেছে। বাংলাদেশকে রবিশংকর সবসময় ভালোবাসতেন এবং তাকে মনে রেখেছিলেন, তার সাথে আমিও বাংলাদেশে গিয়েছি। আমাদের সেখানে সুন্দর সময় কেটেছে। এটা আমাদের দ্বিতীয় ন্বদেশভুমির মতোই।”

এই অনুষ্ঠানে আরো ছিলেন দক্ষিণ ভারতীয় বেহালা শিল্পী এল সুব্রাহ্মনিয়ম, আর পন্ডিত শিবকুমার শর্মা এবং পন্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাশিয়া – যাদের সন্তুর-বাঁশী যুগলবন্দী ঢাকার সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছে সুপরিচিত।
হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া বলছিলেন, রবিশংকরকে বাংলাদেশ যেমন মনে রেখেছে তারও তেমনি মনে আছে ঢাকায় কিছুদিন আগে সংগীত সম্মেলনে বাজানোর স্মৃতি।

ঢাকায় বেঙ্গল শাস্ত্রীয় সঙ্গীত সম্মেলনে সত্তর হাজার লোক রাত থেকে ভোর পর্যন্ত বসে আমার অনুষ্ঠান শুনেছে – এমনটা আমি পৃথিবীর কোথাও দেখিনি” – বলছিলেন তিনি।

এই অনুষ্ঠানে দুটি পর্বে ছিল বাংলা গান। এতে রবীন্দ্রনাথের গান গেয়েছেন বাংলাদেশের অদিতি মোহসিন, আর আর নজরুল-অতুলপ্রসাদ-দ্বিজেন্দ্র-রজনীকান্তের গান গান শোনান লুভা নাহিদ চৌধুরী ।
অনুষ্ঠানের আয়োজক ব্লুজ কমিউনিকেশনের উপদেষ্টা এবং বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের প্রধান আবুল খায়ের বলছিলেন, তাদের লক্ষ্য হচ্ছে এরকম বড় বড় মঞ্চে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি বাংলা গান ও বাংলাদেশের শিল্পীদের তুলে ধরা।

ভবিষ্যতে লন্ডনের রয়্যাল এ্যালবার্ট হল, নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের মতো নামকরা মঞ্চে বাংলা গানের আরো অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা তাদের আছে, বলছিলেন মি. খায়ের।

অনুষ্ঠানে কয়েক হাজার শ্রোতার উপস্থিতি এবং উচ্ছসিত করতালি বলে দিচ্ছিল, লন্ডনের মতো শহরেও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি বাংলা গানের শ্রোতা কম নয়। বিবিসি বাংলা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.