লাইটারেজ জেটি বানাবে চট্টগ্রাম বন্দর

সক্ষমতা বাড়াচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। নিয়মিত জেটি আধুনিকায়নের পাশাপাশি ৩৭ বছর পর এবার সদরঘাটে নির্মাণ করছে লাইটারেজ জেটি। সদরঘাটে ১৯৭৯ সালে নির্মিত লাইটারেজ জেটির পাশে ৪০০ মিটার দীর্ঘ আরও একটি জেটি নির্মাণ করা হচ্ছে। আর এটি নির্মিত হলে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে গতি আরো বাড়বে বলে ব্যবসায়ীদের অভিমত। তবে এই জেটি নির্মিত হলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাথে খেয়া পারাপারের ঘাটটি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে বলে সাম্পান মাঝিরা আশঙ্কা করছেন।

চট্টগ্রাম বন্দরে দিন দিন বাড়ছে কনটেইনার পরিবহনের সংখ্যা। গত বছর রেকর্ড ২০ লাখ টিইইউএস কনটেইনার পরিবহনের পর এ বছর এ সংখ্যা আরো বাড়বে। কনটেইনার পরিবহনের পাশাপাশি মাদার ভেসেলের মাধ্যমে আসা মালামালগুলো খালাসের জন্য কাজ করছে প্রায় দেড় হাজার লাইটার জাহাজ।

এসব জাহাজ মাদার ভেসেল থেকে দ্রুত মালামাল আনলোডিং করতে পারবে জানিয়ে চিটাগাং চেম্বারের প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম বলেন, ‘বন্দরে যতো জেটি, অফডক কিংবা কনটেইনার টার্মিনাল বাড়বে ততোই বন্দরের কার্যক্রম এগিয়ে চলবে। সদরঘাটে যদি লাইটার জাহাজের জন্য আরো একটি জেটি নির্মাণ করে তাহলে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবে। এতে মাদার ভেসেল থেকে দ্রুত পণ্য আনা নেয়া করা সম্ভব হবে।’

চট্টগ্রাম বন্দরের লাইটারেজ জাহাজ ঠিকাদার সমিতির সভাপতি শফিক আহমেদ বলেন, সদরঘাটে লাইটারেজ জেটি নির্মাণ করলে বন্দরের কার্যক্রমে অভূতপূর্ব গতি আসবে। একটি আধুনিক লাইটার জেটি নির্মিত হলে দ্রুত পণ্য উঠা নামাতে যেমন সহজ হবে তেমনিভাবে ব্যবসায়ীরাও দ্রুত পণ্য পাবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তবে ভাটার সময়ও যাতে এই জেটিতে পণ্য উঠানামা করানো যায় তা নিশ্চিত করতে হবে। আগের জেটিতে ভাটার সময় করা যায় না। তাই লাইটারেজ জাহাজ ভেড়ানোর সংখ্যা কম।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে সর্বশেষ জেটি নির্মাণ করেছিল ২০০৭ সালে। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে ৫টি জেটি রয়েছে এবং এর আগে ১৯৯৪ সালে উদ্বোধন করে চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল। এটিতে রয়েছে আরো ৫টি জেটি।

এসব জেটিতে কনটেইনার লোডিং ও আন লোডিংয়ের জন্য আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত গ্যান্ট্রিক্রেন রয়েছে। আর বাকি ১৩টি নিয়মিত জেটিতে বন্দরের অন্যান্য পণ্য পরিবাহিত হয়ে থাকে। তবে লাইটারেজ জেটি আর নির্মাণ হয়নি।

লাইটারেজ জেটি নির্মাণ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও প্ল্যানিং) জাফর আলম বলেন, ‘সদরঘাট লাইটার জেটি ও বিআইডব্লিউটিসি ঘাটের মধ্যবর্তী জায়গায় নির্মাণ করা হচ্ছে এই লাইটার জেটি। এটি নির্মিত হলে লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে পরিবাহিত পণ্যগুলো আধুনিক জেটির সুবিধা পাবে এবং কাজে গতি আসবে।’

বন্দর কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যায়ে নির্মাণ হতে যাওয়া জেটির কাজ শেষ হবে দেড় বছরের মধ্যে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.