শরীরের প্রদাহ এড়াতে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম অপরিহার্য

শরীরের প্রদাহ এড়াতে ঘণ্টা ঘুম অপরিহার্য

স্বাস্থ্য-বিশেষজ্ঞরা রাতে একটানা ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার ঘুমের প্রয়োজনীয়তার কথা প্রায়ই বলে থাকেন। ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বহু গবেষণা হয়েছে বিশ্বজুড়ে এবং প্রতিবারই এর অপরিহার্যতা প্রমাণিত হয়েছে। সে ধারাবাহিকতায় নতুন করে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরের প্রদাহ এড়াতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমের বিকল্প নেই। ইস্টার্ন ফিনল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলছেন, মাঝবয়সে যারা রাতে ৬ ঘণ্টার কম কিংবা ১০ ঘণ্টার বেশি ঘুমান, তারা প্রায়ই নিম্নমাত্রার শারীরিক প্রদাহে ভুগে থাকেন। যারা রাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমান, তাদের সঙ্গে তুলনামূলক পর্যালোচনার পর গবেষকরা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা আইএএনএস। ইস্টার্ন ফিনল্যান্ডে পরিচালিত ওই গবেষণায় অংশ নেন ২ হাজার ৬৮২ জন। এর আগের গবেষণাগুলোতে অপর্যাপ্ত ঘুমের সঙ্গে নিম্ন মাত্রার শারীরিক প্রদাহের সম্পর্ক প্রমাণিত হয়েছে। ঘুমের ব্যাপ্তিকাল ও সিরাম মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট কনসান্ট্রেশনের মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয় ও বিশ্লেষণে এ ধরনের প্রথম গবেষণা এটি। সিরাম কপার কনসান্ট্রেশন ও দীর্ঘ সময় ঘুমের মধ্যে একটি যোগসূত্র পাওয়া গেছে এ গবেষণায়। যারা অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগছেন, বিষাদগ্রস্ত ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তারা নিম্নমাত্রার প্রদাহে আক্রান্ত হতে পারেন। সিরাম মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট কনসান্ট্রেশন নানা কারণে প্রভাবিত হয়। কোন ব্যক্তির সাধারণ স্বাস্থ্য ও খাদ্যাভ্যাসও এর অন্তর্ভুক্ত। ইউনিভার্সিটি অব ইস্টার্ন ফিনল্যান্ড-এর গবেষক মারিয়া লুয়োজুস বলছিলেন, এ গবেষণার ওপর ভিত্তি করে এটা বলা অসম্ভব যে, দীর্ঘ সময় ঘুমানোর ফলে উচ্চমাত্রার সিরাম কপার কনসান্ট্রেশনে আক্রান্ত হওয়া বা ঠিক বিপরীত ঘটনা ঘটে কিনা। উচ্চমাত্রার সিরাম কপার কনসান্ট্রেশনের সঙ্গে প্রো-অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের সম্পর্ক রয়েছে। সাধারণভাবে, হৃৎপিণ্ডে ধমনীর অসুখের মতো বিভিন্ন দূরারোগ্য ও কঠিন ব্যাধিতে প্রো-অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.