শান্তির খোঁজে

রহীম শাহ

সবাই যে ছোটে শান্তির খোঁজে, আমিও খুঁজেছি তাকে
শহরে নগরে বন্দরে ঘুরে পাইনি শান্তিটাকে।
গ্রামে গ্রামে ঘুরে সবুজে সবুজে মুখ লুকিয়েছি কত–
পাখির গানের সুরে সুরে মন হারিয়েছি অবিরত,
দূর সাগরের গানে গানে কত হয়েছি পাগলপারা
সোনার হরিণ সেই সে শান্তি দেয়নি কখনও সাড়া।

বাটালি পাহাড়, ডিসির পাহাড়, চন্দ্রনাথের পাহাড়,
খুলে রেখেছিল আমার জন্য সবুজে নীলের বাহার,
লাল মণিহার চন্দনাগুলো ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে এসে
সবুজ পালকে চিঠি দিয়ে যেত আমাকেই ভালোবেসে।
সেই চিঠি পড়ে শান্তিবার্তা খুঁজে পাইনি তো কভু
কত দিন কত রাত পার করে শান্তি খুঁজেছি তবু।

পাহাড়পুরের বৌদ্ধবিহার একদিন ডেকে বলে,
শোনো শোনো খোকা, তুমি বড় বোকা, এখানেই এসো চলে।
সেখানে দেখেছি সাদা সাদা মন গেরুয়া কাপড়ে ঢাকা,
সবার হৃদয়ে ¯^প্নের মতো নানা আলপনা আঁকা;
সেই বিহারের দেয়ালে ছিল না শান্তির কথা লেখা
শান্তির খোঁজে মহানন্দার পাড়ে ঘুরি একা একা।

বাংলাদেশের দূর দক্ষিণে কুয়াকাটা সৈকতে–
ঘুরেছি আমি পা ডুবিয়ে ডুবিয়ে রুপোলি বালির রথে
সাগরের নীল বুক চিরে চিরে সূর্য সকালে জাগে
আবার সে বুকে টুপ করে ডুব দেয় সন্ধ্যার আগে
সূর্য উঠছে সূর্য ডুবছে– বছর গড়িয়ে যায়;
তবু আমি হায় যেতে পারি নাই শান্তির ঠিকানায়।

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের জলকণা মেখে গায়ে–
শত চা-বাগান পেরিয়ে এসেছি হেঁটে হেঁটে পায়ে পায়ে।
পিয়ান নদীর পাথরের কণা মনে ছড়িয়েছে রং
খাসিয়া পল্লি বাঁয়ে রেখে পার হয়ে গেছি জাফলং।
সকাল দুপুর সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত্রি নেমেছে কবে
কেউ তো বলে না শান্তি কোথায়– আমি কি পাব না তবে!

সারা দেশ ঘুরে একদিন ভোরে বাড়ির উঠোনে এলে
মা হেসে বলেন, ‘কোথায় ছিলি রে দুষ্টুমন্ত ছেলে?’
শাড়ির আঁচলে চোখদুটো মুছে তিনি বাড়ালেন হাত
সেই হাতে হাত রাখতেই উঠি চমকে অকস্মাৎ!
শান্তি শান্তি করে কত ঘুরে দেখেছি তিলোত্তমা–
পৃথিবীর সব শান্তিরা আছে মায়ের বুকেতে জমা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.