সউদি আরবে আজান ও ইক্বামার ব্যবধান নিয়ে বিতর্ক

নামাজের দু’টি আজানের (আজান ও ইক্বামা) মাঝখানে সময়ের ব্যবধান কতো থাকবে, তা নিয়ে সউদি আরবে পুরনো বিতর্ক নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সউদি গেজেট পত্রিকায় শনিবার এ নিয়ে দীর্ঘ এক প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। আল রিয়াদ ডেইলির উদ্ধৃতি দিয়ে এতে বলা হয়, আজান ও ইক্বামার মাঝখানে সময়ের ব্যবধান কতো হবে তা যেহেতু নির্দিষ্ট করা নেই, তাই একেক মসজিদে একেকরকম গ্যাপ দিয়ে নামাজ শুরু করে। অনেকে মনে করেন, দুই আজানের গ্যাপটা বেশ বড়। এরা মনে করেন, বিশেষ জরুরি সার্ভিস, যেমন ওষুধের দোকান, হাসপাতাল, গ্যাস স্টেশন ইত্যাদির স্বার্থে এই গ্যাপটা কমিয়ে রাখা উচিত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অনেক প্রতিষ্ঠান নামাজের জন্য বন্ধ করলেও পরে আর সময়মতো খোলে না। জনসাধারণের অভিযোগ, নামাজের পর অনেক ফার্মেসি ও গ্যাস স্টেশন খোলার জন্য তাদের এক ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এসব ক্ষেত্রে যাদের জরুরি ভিত্তিতে ওষুধ বা গ্যাস প্রয়োজন, তাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়।

যারা আজান ও ইক্বামার মাঝখানে সময়ের ব্যবধান কমানোর পক্ষে তারা বলেন, নামাজ তো মাত্র কয়েক মিনিটের, তাহলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এতো সময় বন্ধ থাকবে কেন? তাদের বলা উচিত তারা যেন ঠিক সময়ে সব খোলেন।

দাওয়া অ্যাক্টভিস্ট শেখ সালিহ আল-রাশেদ আজান ও ইক্বামার মাঝখানে সময়ের ব্যবধান কমানোর একেবারেই পক্ষপাতী নন, বিশেষ করে ইশা’র ওয়াক্তে। তাঁর মতে, এই সময়টায় নামাজের জন্য মসজিদে আসার প্রস্তুতি নিতে এবং মসজিদে আসতে বেশ-কিছু সময় দরকার। এছাড়া হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) দুই আজানের মাঝখানে সময়ের ব্যবধান কমাতে বলেননি, বরং ওই সময়ের মুসলিমদের অবস্থা বিবেচনায় তিনি সময়টা দীর্ঘই রেখেছিলেন।

তিনি বলেন, দুই আজানের মাঝখানে সময়ের ব্যবধান সব অবস্থায় এবং সারা শহরে একইভাবে কমানো ঠিক হবে না। আমি মনে করি, ফার্মেসি, ক্লিনিক, হাসপাতাল ও মলের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানের আশপাশে অবস্থিত মসজিদগুলোতে এই সময়টা কমানো যেতে পারে। তবে নামাজের জন্য এসব প্রতিষ্ঠান আধ ঘণ্টা বন্ধ রাখা উচিত হবে না।

শেখ হুমায়দান আল-জোহানি নামের এক ইমাম বলেন, নামাজের জন্য দোকানপাট ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো যদি এক ঘণ্টাও বন্ধ রাখতে হয়, আমাদের উচিত অপেক্ষা করা। মুসলমানদের উচিত আজানের পর ও ইক্বামার আগে পবিত্র ক্বুরআন তেলাওয়াত ও আল্লাহ’র কাছে কান্নাকাটি করা। কারণ, দোয়া কবুল হওয়ার এটাই প্রকৃষ্ট সময়।

তিনি বলেন, তাই বলে যারা বলেন যে নামাজের জন্য দোকানপাট ও ফার্মেসি এক ঘণ্টা বন্ধ রাখা উচিত – আমি তাদেরও পক্ষে নই। আমি বলছি অনেক মহিলা ঘণ্টার পর ঘণ্টা শপিং করে কাটিয়ে থাকেন, তারা নামাজের সময়টা দোকান খোলার অপেক্ষায় থাকতে পারেন।

উপরে উল্লেখিত উভয় ব্যক্তির সাথে ভিন্নমত প্রকাশ করে শেখ জিয়াদ আল-রাবিয়া নামে এক নোটারি পাব্লিক বলেন, নামাজ পড়তে সময় লাগে পাঁচ মিনিট। তাহলে দুই আজানের মাঝখানে এতো দীর্ঘ গ্যাপের উদ্দেশ্য কী?

তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনক হলো, অনেক ফার্মেসির অভ্যাসই হলো প্রথম আজানের পাঁচ মিনিট আগে দোকান বন্ধ করা এবং নামাজ শেষের এক ঘণ্টা পর দোকান খোলা। ফলে অনেক মানুষকে অপেক্ষা করতে হয়। একই দৃশ্য দেখা যায় ব্যাঙ্ক এবং আরো কিছু সংস্থায়। অথচ দেখুন স্কুলে, সেখানে শিক্ষার্থীদের নামাজের বিরতি দেয়া হয় ১০ মিনিট। স্কুলে হলে ফারমেসি ও পলিক্লিনিকে কেন হবে না?

শিক্ষাবিদ আব্দুল রাহমান আল-আতভি নামাজের জন্য গ্যাস স্টেশন ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলো পাঁচ মিনিট এবং হাইওয়েতে অবস্থিত গ্যাস স্টেশনগুলো ১০ মিনিট বন্ধ রাখার পক্ষে মত দেন।

ব্যবসায়ী ওয়াসিফ আল-কাবলি মত প্রকাশ করেন যে, সরকারের উচিৎ, ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোর ফার্মাসিস্ট ও রিসেপসনিস্টদেরকে কর্মস্থলে নামাজ আদায় করতে বলা। কারণ, ইসলাম মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করতে বলেছে এবং অনেককিছুই তাদের জন্য সহজ করে দিয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.