সব ভোগান্তি তুচ্ছ করে আনন্দ যাত্রা শুরু

সব ভোগান্তি তুচ্ছ করে  শুরু হয়েছে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা। আজ দুপুরের পর থেকেই রাজধানীর সকল স্টেশনগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লেগে যায়। আনন্দের এই যাত্রার সঙ্গে শুরুতেই সঙ্গী হয়েছে ভোগান্তি। ঘর থেকে বের হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় এই ভোগান্তি।

আগামী রোববার শুরু হচ্ছে ঈদের ছুটি। ছুটি ছিল মূলত সোমবার থেকে। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে রোববারও ছুটি ঘোষণা করা হয়। শুক্র ও পরেরদিন শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। যে কারণে আজকের অফিসই ছিলো সরকারি চাকরিজীবিদের জন্য শেষ কর্মদিবস। যে কারণে অনেকে সবারই প্রস্তুতি নিয়ে অফিসে আসেন। অফিস শেষে রওয়ানা দেন বাড়ির উদ্দেশে। অনেকে আবার সকালে অফিসে গিয়ে সাক্ষর করে জরুরি কাজ না থাকায় কেটে পড়েন বলেও অভিযোগ রয়েছে। যে কারণে দুপুর হতেই স্টেশনগুলোতে ভিড় লেগে যায় ঘরমুখো মানুষের। রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী, গুলিস্তান বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলস্টেশন এবং সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে খবর নিয়ে জানা গেছে দুপুরের দিকেই মানুষের ঢল নেমেছে। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে তীল ধারণের ঠাঁই নেই। টার্মিনালে উপচে পড়ছে মানুষ। কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় শতশত ঘরমুখো মানুষ ভীড় জমিয়েছেন। যাদের অনেকের সাথে পরিবার পরিজনও রয়েছে। কমলাপুর স্টেশন সূত্র বলেছে, আজ দু’টো নতুন ট্রেন চালু হয়েছে। একটি সুন্দরবন এক্সপ্রেস, যেটি সকাল ৬ টা ২০ মিনিটে খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। অপরটি মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস। এটি বেলা আড়াইটার দিকে ছেড়ে গেছে মোহনগঞ্জের উদ্দেশ্যে।
এদিকে, শুরুর দিনই মানুষ পড়েছেন চরম ভোগান্তির মধ্যে। আজ সকাল থেকেই রাজধানীতে ছিলো উপচে পড়া ভীড়। কমলাপুর স্টেশনে আলা উদ্দিন নামের এক যাত্রী বলেছেন, ধানমন্ডি ৬ থেকে কমলাপুর আসতে তার দেড় ঘন্টা লেগে গেছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আরামবাগের বিলাসবহুল কাউন্টারগুলো থেকে ঘরমুখো মানুষ নিয়ে বাসগুলো যাত্রা শুরু করে। দুপুরের দিকে সামিউল নামের এক যাত্রী বলেন, বাসা থেকে বের হয়ে কাউন্টার পর্যন্ত আসতেই তো চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। পথে যে কতো ভোগান্তি হবে তাতো এখনো বলা যাচ্ছে না।
এদিকে, শুরুর দিনই যানবাহনগুলোতে বাড়তি ভাড়া আদায় শুরু হয়ে গেছে। ফাহিম নামের এক যাত্রী বলেন, রাজধানীর গুলিস্তান থেকে মাওয়ার ভাড়া ৭০-৮০ টাকা। সেখানে আজই দেড় শ’ টাকা আদায় করা হয়েছে। যাত্রীদের চাপ দেখে সকাল থেকে ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। ঈদ বকশিষের নামে এই বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটের অবস্থা খুবই নাজুক হয়ে পড়েছে। আজও সবক’টি ফেরীঘাট সচল করা সম্ভব হয়নি। ঘাট সূত্র জানিয়েছে, ঘাটের দু’পাশে শত শত যানবাহন আটকে আছে। এরমধ্যে অধিকাংশই যাত্রীবাহী যানবাহন। এই যাত্রীরা মারাত্মক ভোগান্তিতে রয়েছে। গাজীপুর এলাকায়ও ভয়াবহ যানজটের খবর পাওয়া গেছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কেও তীব্র যানজটে যাত্রীদের আটকে থাকার খবর পাওয়া গেছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.