সমুদ্রের স্বাদ

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্পের নায়িকা সমুদ্রদর্শনে যেতে পারেনি, তাই চোখের নোনাপানি চেটে সমুদ্রের স্বাদ পেতে চেয়েছিল। যুগে যুগে কবিরা সমুদ্রের স্তুতি গেয়েছেন কবিতায়। মানুষ লুটেছে সমুদ্রের সম্পদ। সমুদ্রপথ ধরে ছুটেছে দেশ থেকে দেশান্তরে। পরিবেশবাদীরা চাইছে সমুদ্রের সুরক্ষা। এমনই দুর্বার আকর্ষণ সমুদ্রের।
বিদেশী সাময়িকী অবলম্বনে এই সমুদ্রপ্রেমের গল্প লিখেছেন হুমায়ুন সাদেক চৌধুরী

 

আমরা বসে ছিলাম ওমানের মুসানদাম উপদ্বীপে; সমুদ্রের ধার ঘেঁষে। আমাদের সামনে সমুদ্র, পেছনে গ্রাম জনপদ। লু বইছে। প্রচণ্ড গরম। এ দেশে এমন তপ্ত হাওয়াকে বলে শামাল। সেটা এমন ঝড়ো বেগে বয় বুঝি তার তোড়ে গাছ থেকে খেজুর ঝরে পড়ে। আমাদের কাছেই বসে ছিল এক ওমানি বুড়ো। তার মুখখানি দেখলে মনে হয় যেন আখরোটের খোসা। চোখের দৃষ্টি অপলক। বুড়ো খসখসে গলায় বলল, এটা হলো পশ্চিমা বায়ু। এর গরমটা আমাদের ভালোই লাগে।
ইয়েমেনি বুড়ো আবাল্য এতে অভ্যস্ত বলে তার ভালো লাগতেই পারে। কিন্তু আমার, যতবার শ্বাস নিই, মনে হচ্ছিল গরমে নাকটা বুঝি ফেটে যাবে। আমি এদিক-ওদিক তাকাই। দেখি, উপকূলে বালির ওপর উল্টে রাখা নৌকার ছায়ায়, অদূরে মসজিদের দেয়ালে হেলান দিয়ে ছাগলের দল দিব্যি বিশ্রাম নিচ্ছে। আমার সঙ্গী ইয়েমেনি ডুবুরি সামি আলহাজ বলল, ‘পানির নিচে গেলে, প্রবালের মাঝখানে সাঁতার কাটতে-কাটতে মনে হয় যেন বেহেশতের একটা টুকরা। আর ওপরে এলে, এই তপ্ত হাওয়া গায়ে লাগলে মনে হয় বুঝি দোজখে এলাম।’
অতএব দোজখে থাকা কেন, আমরা আর দেরি না করে ঝাঁপিয়ে পড়লাম সমুদ্রে। শুধু তাপমাত্রার তারতম্য নয়, বিচিত্র রঙের বিভাও আমাদের বুঝিয়ে দিলো যে আমরা নরক ছেড়ে স্বর্গে চলেছি। পৃথিবীতে আর ক’টা রঙ। এখানে যেন মেলা বসেছে রঙের। বিচিত্র রঙের ঝলসানিতে মনে হয় আমরা যেন কোনো রাজপুরীতে এসে পড়েছি। নরম প্রবালের দীর্ঘ, ধোঁয়াটে নীল বাহু মিশে গেছে ডালিম রঙের তারকা আকৃতির ফার্নের পাতার সাথে। ছোটাছুটিতে ব্যস্ত বান মাছ হাঁ করলেই বিচ্ছুরিত হচ্ছে হলুদ আভা। আছে বহুরঙা বাটারফ্লাই মাছ। রঙের এই বিচিত্র ভুবন দেখে মনে হয়, আরব্য রজনীর রূপকথার রচয়িতা রাজকুমারী শেহেরজাদ যদি সমুদ্রতলের এই আজব দুনিয়ার কথা জানতেন, তাহলে তিনি আরো এক হাজার একটি রূপকথা রচনা করতে পারতেন। তিনি বাদশাকে বলতে পারতেন ওমানের দক্ষিণে ধোপার অঞ্চলের শৈলশ্রেণীর কথা, যা শীতে হয় প্রবাল বাগান আর গ্রীষ্মে সমুদ্রশৈবালের অরণ্য। এমনটি আর কোথাও দেখা যায় না। সমুদ্রশৈবালের এই ঝাড় গোটা শৈলশ্রেণীকে সবুজ, লাল ও সোনালি পত্রগুচ্ছে আবৃত করে দেয়।
রাজকুমারী শেহেরজাদ কুয়েত উপকূলের সমুদ্রের ঢেউয়ের সাথে ভেসে আসা আরো নানা বিচিত্র প্রাণীর কথাও বলতে পারতেন বাদশাকে। বলতে পারতেন মাসিরা দ্বীপের ভুতুড়ে কাঁকড়ার কথা। এই কাঁকড়াগুলো সারা রাত সৈকতে বালির পাহাড় বানায় আর পরদিন জোয়ার এসে সব ভাসিয়ে নিয়ে যায়। মনে হয়, এ জন্যই ওরা পাহাড়গুলো বানায়। এতেই ওদের আনন্দ। কী সব বিচিত্র প্রাণীই না বসত করে সমুদ্রে!
বুঝি বা এ কারণেই আজ থেকে শতবর্ষ আগে মিসরীয় কবি মুহাম্মাদ হাফিজ ইবরাহিম লিখেছিলেন : ‘আমিই সমুদ্র। জলের গভীরে রাখি সম্পদের রাশি। কেউ-কি বলেছে তোমাকে, ডুবুরি হে, আমার মুক্তাদানার কথা?’ কেউ বলুক অথবা না, উপকূলের একদল মানুষ বংশপরম্পরায় সমুদ্রে ঝাঁপ দিত অথবা সন্ধান করত ঝিনুকের, যার পেট চিরলে পাওয়াও যেতে পারে মহামূল্যবান মুক্তা। দুরন্ত সাহসী মানুষ ছিল ওরা। এখনকার মতো অত আধুনিক সাজসরঞ্জাম গায়ে জড়ানোর কথা ভাবতেই পারত না। গায়ে একটা পাতলা সুতি জামা, জেলি ফিশের ছোঁয়া বাঁচানোর জন্য। আর চোখে একজোড়া বিশেষ ধরনের চশমা এই তো। এ নিয়ে ওরা প্রতিদিন ৪০, ৫০ এমনকি ১০০ বারও সমুদ্রে ডুব দিত। কতজন যে এভাবে মারা গেছে। বিষাক্ত স্টোনফিশের কাঁটা ফোটে, হাঙরের কামড়ে। ক্লাউনফিশের লক্ষ্য ছিল ডুবুরিদের চোখের দিকে। মানুষের চোখ ওদের প্রিয় খাদ্য। পানির চাপে কানের পর্দা ফেটে গিয়ে চিরবধির হয়ে গেছে অনেকে। সমুদ্রের নোনাজল অনেককে করে দিয়েছে অন্ধ। সেই অদম্য সাহসী মানুষদের দু-একজন এখনো বেঁচে আছে।


ওরা সমুদ্রে নামত মুক্তাভরা ঝিনুকের খোঁজে। তখন মুক্তা বিকোতো হীরার দামে। পারস্য উপকূলের সবচেয়ে দামি সম্পদও এই মুক্তা। তাই উপকূলের কমবেশি ৭০ হাজার মানুষ সে সময় এ কাজে নিয়োজিত ছিল। কিন্তু নিজেদের তোলা এই মূল্যবান সম্পদের কানাকড়িও তাদের ভাগ্যে জুটত না। ঝিনুক তুলেই ছুড়ে ফেলা হতো একটি স্তূপে। বলা হতো, পরদিন ঝিনুক মারা গেলে তবেই খুলে দেখা হবে মুক্তা আছে কি না। ফলে ডুবুরি বেচারা জানতেই পেত না সে কী তুলল; এমনকি মহা মূল্যবান মুক্তা তুললেও। তবুও তাকে এ কাজই করতে হতো। কেননা, সে পিতা-পিতামহ ক্রমে আটকে আছে ঋণের জালে। এই ঋণ শোধ করতে হবে না!
এরপর এই মুক্তা নিয়ে ধাউ (কুয়েতের ঐতিহ্যবাহী বড় দেশী নৌকা) ছুটত দেশ থেকে দেশান্তরে; জানজিবার থেকে ব্যঙ্গালোর। ধাউ চলত মওসুমি বাতাসে। ফলে জ্বালানি খরচ ছিল না। বাতাসই ছিল ধাউয়ের জ্বালানি। আর বাতাস তো আল্লাহর, তাই তা বিনামূল্যে পাওয়া যায়। ১৯৩০ সাল পর্যন্ত এ ব্যবসায় চলে।
এরপর এলো তেল। তেল বিক্রির টাকায় আরবদের জীবন বদলে গেল রাতারাতি। উটের জায়গা নিলো ক্যাডিলাক। মাটির ঘর ভেঙে তৈরি হলো বহুতল ভবন, শপিং মল। আরব দুনিয়ার মানুষ যেন তেলসম্পদের জাদুর গালিচায় উড়ে বেড়াতে লাগল। মানুষের চাহিদা ও ভোগের তৃষ্ণা গেল বেড়ে। সেই তৃষ্ণা মেটাতে মানুষের হাত পৌঁছে গেল সমুদ্রের আরো গভীরে। অতিরিক্ত মতস্যশিকার, সমুদ্রতলে খোঁড়াখুঁড়ি, দূষণ সব মিলিয়ে সমুদ্রের মারণদশা উপস্থিত হলো। ২০১০ সালে একদল সমুদ্রবিজ্ঞানী পারস্য উপসাগরকে বলেছেন, ‘মৃত্যুপথযাত্রী সমুদ্র’। তাদের মতে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আমরা একটি অনন্যসাধারণ সমুদ্র হারিয়ে ফেলব।
পারস্য উপসাগরের সবচেয়ে বিপন্ন প্রাণী সম্ভবত হাঙর। এটা বোঝা যায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় দুবাইয়ের দেইরা ফিশ মার্কেটে গেলে। দেখা যাবে, ওমান থেকে আমিরাত সব স্থান থেকে ট্রাকবোঝাই হয়ে আসছে হাঙর। হাঙরের ডানা ও মাংস, দুটোই প্রাচ্যের কোনো-কোনো দেশে লোভনীয়। তাই ব্যবসায়ীরা নিলামে কিনে নিচ্ছে হাঙর। এর মধ্যে একদল লোক হাঙরের পাখনা কেটে নিচ্ছে। এ দিকে দেখা গেল একটি ট্রাক থেকে নামছে হাঙরের শুকনো পাখনা। তাও নিলামে উঠল এবং নিমেষে বিক্রি হয়ে গেল।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ইউনিভার্সিটিতে প্রাণিবিজ্ঞানে পিএইচডি করছেন রিমা জোবেদা। গবেষণাকাজে তিনি প্রায়ই এখানে আসেন। তিনি বলেন, প্রথম-প্রথম আমি ভাবতাম, হাঙরের বুঝি শেষ নেই। কিন্তু এখন বুঝতে পারি, এভাবে চলতে থাকলে ওরা (হাঙর) আর কত দিন টিকতে পারবে?
রিমা জোবেদা এ প্রশ্নটাই করেন নিজ দেশের মৎস্যশিকারিদের। জানতে চান, হাঙর সংরক্ষণ করার প্রয়োজন মনে করেন কি না তারা। জবাবে কেউ কেউ বলেন, ‘হাঙর সংরক্ষণ করতে হবে কেন? ওরা আল্লাহর দান। কমে গেলে আল্লাহই পুষিয়ে দেবেন।’ আবার কেউ কেউ জোবেদার সাথে একমত হন। বলেন, ‘তবে কাজটা এই অঞ্চলের সব দেশকে এক সাথে করতে হবে। নইলে ধরুন আমরা হাঙর শিকার বন্ধ করলাম, ইরান কী করবে? তাহলে আমরাই বা করব কেন?’
পারস্য উপসাগরের পাড়ে আট দেশের সীমান্ত এসে মিশেছে। তাদের সবার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি এক। ভাষাও অভিন্ন। সম্পদ ও সমস্যাও তাই। জোবেদার প্রশ্ন, তাহলে এসব দেশ কেন এক সাথে কাজ করতে পারছে না?
রিমা জোবেদার উদ্বেগটা শুধু যে মৎস্যসম্পদ নিয়ে তা নয়। তার দুশ্চিন্তা উপসাগরের সামগ্রিক পরিবেশ নিয়ে। এ উপসাগরে আছে তেল ও গ্যাস উত্তোলনের কয়েক শ’ প্লাটফর্ম। হরমুজ প্রণালীর সঙ্কীর্ণ পথ দিয়ে মুসানদাম উপদ্বীপ ও ইরানের মধ্যে প্রতি বছর লাখ লাখ ট্যাংকার চলাচল করে। জোবেদার দুশ্চিন্তা, যদি এই সঙ্কীর্ণ পথে একটা দুর্ঘটনা ঘটে যায়? পারস্য উপসাগরের গড় গভীরতা ৩০ মিটার। এখানে একটা বড় দুর্ঘটনাই পুরো ইকো-সিস্টেমকে ছিন্নভিন্ন করে দিতে পারে। তাই জোবেদা চান, উপকূলের দেশগুলো সবাই মিলে এখনই কিছু একটা করুক।
জোবেদার উদ্বেগ ও ভাবনা, মনে হচ্ছে বৃথা যাবে না। বিভিন্ন দেশের মধ্যে ঐক্যের ধারণাটি দানা বাঁধতে শুরু করেছে। কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে পারস্য উপসাগরের বৃহত্তম প্রাণী তিমি-হাঙ্গরকে সুরক্ষা দেয়ার বিষয়টি ভাবতে শুরু করেছে। তেল ও গ্যাস উত্তোলনের জন্য সমুদ্রে স্থাপিত রিগের আশপাশে মৎস্য শিকার নিষিদ্ধ করাটাও সামুদ্রিক প্রাণীদের জন্য ইতিবাচক হয়ে দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া মানুষের মধ্যে সচেতনতাও বাড়ছে। কুয়েতে কয়েক শ’ শৌখিন ডুবুরি একটা দল গড়েছে। যুদ্ধ ও বর্জ্যরে কারণে পরিবেশে সৃষ্ট ক্ষতিপূরণে কাজ করছে দলটি। তারা সমুদ্রে ডুবে যাওয়া নৌযান উদ্ধার করে। ইতোমধ্যে তারা কুয়েতের শৈলশ্রেণী থেকে কয়েক টন পরিত্যক্ত জাল তুলে এনেছে। এই দলে আছে নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ। কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার, টিভি প্রযোজক, মসজিদের ইমাম কে নেই? এক দিন উদ্ধারকারী দলের ফেরার পথে, নামাজের সময় হতেই কয়েক জন দাঁড়িয়ে গেলেন কেবলামুখী হয়ে। জাহাজের ইঞ্জিনের প্রচণ্ড গর্জন দাপিয়ে ভেসে এলো তাদের কণ্ঠনিঃসৃত কুরআনের বাণী। নামাজ শেষে তারা গোটা দুনিয়ার জন্য আল্লাহর রহমত কামনা করলেন।
পারস্য উপসাগরের অপর প্রান্তে, দুবাইয়ে একদল সৈকত ভ্রমণকারী উপকূলে আটকে পড়া কচ্ছপ উদ্ধার করেন এবং সেগুলো বিলাসবহুল বুর্জ আল আরব হোটেলের পুনর্বাসন কেন্দ্রে জমা দেন। এভাবে গত বছর (২০১১) শুধু এই সৈকত থেকেই সাড়ে তিন শ’ অল্পবয়সী কচ্ছপ উদ্ধার হয়েছে। সমুদ্রের আবহাওয়ায় ঠাণ্ডায় আক্রান্ত হয়ে এগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছিল। পুনর্বাসন কেন্দ্রের এক কর্মকর্তা বলেন, উদ্ধারের প্রথম ২৪ ঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়টায় বাঁচিয়ে রাখা গেলে শতকরা ৯৯ ভাগ ক্ষেত্রে এগুলো সুস্থ হয়ে যায়।
এরপর সুস্থ কচ্ছপগুলো নিয়ে যাওয়া হয় সৈকতে। তারা বুঝতে পারে, সমুদ্র কোথায়। এরপর ছুটে যায় পানির দিকে এবং পানিতে ভেসে-ডুবে সাঁতার কাটতে কাটতে চলে যায় সমুদ্রের অজানা গন্তব্যে। কচ্ছপগুলোর শরীরে ঢুকিয়ে দেয়া হয় মাইক্রোচিপ, যাতে পরে এগুলো শনাক্ত করা যায়। এই প্রকল্প চলছে গত সাত বছর ধরে, কিন্তু একটি কচ্ছপও দ্বিতীয়বার এই উপকূলে ভেসে আসেনি।
বুর্জ আল আরব হোটেলের সবচেয়ে বিখ্যাত ‘রোগী’ হচ্ছে একটি বয়স্ক সবুজ কচ্ছপ। এটির নাম দেয়া হয় দিব্যা। দিব্যার খোলসটি কিভাবে যেন ভেঙে গিয়েছিল। পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্রধান বেভারস্টক ও তার টিমের ১৮ মাস সময় লাগে সেটি জোড়া লাগাতে। তারপর সেটিকে ছেড়ে দেয়া হয় সমুদ্রে, তবে অবশ্যই তার শরীরে একটি স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার লাগিয়ে। এর সাহায্যে গবেষক বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন ২৫৯ দিনে দিব্যা পাঁচ হাজার মাইল পথ অতিক্রম করেছে। আরব সমুদ্র থেকে শুরু করে, মালদ্বীপ ছাড়িয়ে, শ্রীলঙ্কাকে পাশ কাটিয়ে দিব্যা পৌঁছে যায় আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে। এরপর? না, এরপর আর জানা যায় না। কারণ ট্রান্সমিটারের ব্যাটারিটি আর সচল নেই।
কিন্তু একটি কচ্ছপ হয়ে দিব্যা কিভাবে এই পথ বেছে নিতে পারল? সেই প্রাচীনকালে আরব বণিকেরা তো এই পথ দিয়ে বাণিজ্যে আসতেন ভারতে। তাদের ধাউয়ে থাকত বসরার খেজুর ও মুক্তা। এই পথ দিয়েই তারা ফিরে যেতেন। ধাউয়ে এবার থাকত কর্পূর, রেশমি কাপড়, চন্দনকাঠ ও লবঙ্গ। প্রতিটি আরব পরিবারেই থাকত একজন না একজন কাপ্তান বা নাবিক, মুক্তা তোলার ডুবুরি বা নৌকা মেরামতকারী। এই লোনা পানির উত্তরাধিকার তাদের জিনে লেখা। আধুনিকতা এসে এই স্মৃতি নিভিয়ে দিয়েছে। এক প্রবীণ ওমানী ব্যবসায়ী আর্তস্বরে বলেন, ‘সমুদ্রযাত্রার আনন্দ ও তৃষ্ণা আমরা ভুলে গেছি।’
সত্যি বটে। তবে এটাও সত্যি, সেই তৃষ্ণা আবার ফিরে আসছে। বহু আরব এখন সমুদ্রে নামে। তবে সমুদ্র সম্পদ লুটতে নয়, সমুদ্রকে ভালোবেসে। সমুদ্র যেমন, ঠিক তেমনটি করে তার স্বাদ পেতে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.