সাংবাদিক ও ভাষা সৈনিক জয়নুল আবেদীন আর নেই

ঢাকা, বাসস : জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রবীণ সদস্য ও ভাষা সৈনিক সাংবাদিক জয়নুল আবেদীন আর নেই।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ১৫ মিনিটে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কামরুল হাসান খান বাসস’কে জানান। তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। আজ সকাল ৯টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে তার জানাজা শেষে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান জানিয়েছেন।
তিনি জাতীয় প্রেসক্লাব ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস)-এর একমাত্র জীবিত প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাহিত্যকর্মেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। জনপ্রিয় অনেক চলচ্চিত্রের কাহিনীও তার লেখা।
১৯৫০ সাল থেকে জয়নাল আবেদীন ঢাকায় বসবাস করছেন। তার ঠিকানা তোপখানা রোডের জাতীয় প্রেস ক্লাব। সেখানেই তিনি থাকতেন। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। দুই ভাই পাকিস্তানের করাচিতে থাকেন। একমাত্র বোন চার বছর আগে মারা যান। বাবা মোস্তফা ও মা জয়তুন বিবির কবর সৈয়দপুরে। পাকিস্তানের ডেইলী জং পত্রিকার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট চলচ্চিত্র কাহিনীকার জয়নুল আবেদীন ১৯৩৭ সালে ভারতের এলাহাবাদে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর তিনি বাবার সাথে এদেশে চলে আসেন। তার বাবা ছিলেন রেলওয়ের একজন কর্মকর্তা। তার শৈশব কাটে বিহার ও সৈয়দপুরে। ১৯৫২ সালে ঢাকা কলেজে পড়ার সময় তিনি ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশ গ্রহণ করেন। বার্ধক্যজনিত নানা রোগ ও যকৃতের জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সৈয়দপুরের হাইস্কুল থেকে মেট্রিকুলেশন পাসের পর ঢাকা কলেজ থেকে আইকম এবং জগন্নাথ কলেজ হতে বিকম পাস করেন তিনি। সাংবাদিকতা জীবন শুরু ১৯৫৭ সালে উর্দু দৈনিক জংয়ের মাধ্যমে। পরে তিনি মর্নিং নিউজ, বাংলাদেশ টাইমস, চলচ্চিত্র পত্রিকা চিত্রালী, ওয়াতন, সংবাদ সংস্থা এনায় কাজ করেছেন।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন আজ এক শোক বার্তায় সাংবাদিক জয়নুল আবেদীনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন। তারা মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.