সাকিবের টেস্ট রোমাঞ্চ

বাংলাদেশের জার্সিতে টেস্ট খেলার হাফ সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে আছেন সাকিব আল হাসান। সবকিছু ঠিক থাকলে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম টেস্টই হবে সাকিবের ক্যারিয়ারের ৫০তম টেস্ট। একই মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে তার ঘনিস্ট বন্ধু ওপেনার তামিম ইকবালও। আজ মিরপুরে দলের অনুশীলন শেষে সাংবাদিকদের সাকিব বলেন ১০ বছরে ৫০ টেস্ট খেললেও খুব বেশি আফসোস নেই তার। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দুই ম্যাচে ভালো কিছু করতে চান তিনি।

বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬১টি টেস্ট খেলেছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। মুশফিকুর রহিম ৫৪টি, হাবিবুল বাশার সুমন ৫০টি টেস্ট খেলেছেন। ২০০৭ সালে চট্টগ্রামে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল সাকিবের। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার এখন ৫০তম টেস্ট খেলার জন্য মুখিয়ে আছেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার পদচারণা ২০০৬ সালে। পরের বছর টেস্ট অভিষেক। দীর্ঘ ১১ বছর ক্যারিয়ারে বাংলাদেশ ক্রিকেটের নানা চড়াই-উতরাইয়ের সঙ্গী সাকিব আল হাসান। অনেক কিছু দেখেছেন, সহ্যও করছেন অনেক কিছু। একটা সময় ছিল, যখন বাংলাদেশকে মনে করা হতো ‘সহজ প্রতিপক্ষ’। এ নিয়ে কম রসিকতা চলেনি ক্রিকেটের কুলীন দলগুলোর মধ্যে। তবে অতীতের সেই দুঃসহ দিন পেরিয়ে বাংলাদেশ এখন ক্রিকেটবিশ্বের এক নতুন শক্তি।

২০ আগস্ট ঢাকায় পা রেখেই স্বাগতিকদের ভূয়সী প্রশংসা করেন অস্ট্রেলিয়া কোচ ড্যারেন লেম্যান ও অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। প্রতিপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া এই সম্মান ‘বড় প্রাপ্তি’ বলে অভিহিত করেছেন সাকিব। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বাঁহাতি এ অলরাউন্ডার বলেন, ‘ক্রিকেটার হিসেবে এটা আমাদের জন্য বড় অর্জন। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেট যেভাবে এগিয়েছে, তা সত্যিই অসাধারণ। এখানে ক্রিকেট যেভাবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে, আমার মনে হয় না অন্য কোথাও এতটা জনপ্রিয়। এমনকি ভারতেও নয়। এখন বাংলাদেশে সবকিছুর আগে ক্রিকেট চলে আসে।’

সাকিব জানান, ঘরের মাঠে বাংলাদেশ এখন যথেষ্ট শক্ত প্রতিপক্ষ। ‘হোম কন্ডিশন কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষকে হারানো’ এটা মোটামুটি রপ্ত করে ফেলেছে টাইগাররা। ক্রিকেটের এই রূপান্তরে অনেকেরই অবদান দেখতে পান সাকিব, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই রূপান্তরের পেছনে অনেকের অবদান রয়েছে। শুধু আমরা খেলোয়াড়রা মাঠে ভালো খেলেছি, তা নয়। কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে বোর্ড কর্মকর্তা, অগণিত ভক্ত ও রিপোর্টার আপনাদের সবারই অবদান রয়েছে। আপনারা না থাকলে এটা সম্ভব হতো না।’

টেস্ট র্যাংকিংয়ে এক নম্বর অলরাউন্ডার হওয়া সত্ত্বেও গত ১০ বছরে সাকিব টেস্ট খেলছেন মাত্র ৪৯টি। যদিও এ নিয়ে তেমন কোনো আক্ষেপ নেই তার মনে। বলেছেন, ‘জীবনে খুব বেশি আফসোস নেই। যা হয়েছে, তাতে আমি খুশি। বেশি খেলতে পারলে ভালো লাগত। যতগুলো ম্যাচ খেলেছি, তাতে কতটা পারফর্ম করেছি, সেটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।’ এ সময় স্মৃতির পাতা থেকে কয়েকটি স্মরণীয় টেস্টের কথাও উল্লেখ করেন সাকিব, ‘স্মরণীয় টেস্ট বলতে গত বছর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়। এছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ৯৬ করেছিলাম, সেটাও মনে পড়ছে। আর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২১৭, বড় অর্জন ছিল। বোলিংয়ের দিক থেকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রামে।’

অতীতের সব সুখস্মৃতি চারণ করার সময় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন এই নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডার। দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজে অসিদের হোয়াইটওয়াশের প্রত্যাশা এ বাঁহাতির, ‘এটা সম্ভব। সম্ভব না হওয়ার তো কিছু দেখি না, তাই প্রত্যাশা দুই টেস্টই জেতা।’ যেকোনো কন্ডিশনে অস্ট্রেলিয়ার মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা থাকলেও দুই দলের স্পিন দ্বৈরথে নিজেদের এগিয়ে রাখলেন সাকিব, ‘অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের কালচারটা এমন যে, ওরা সব কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে পারে। ওদেরকে হারাতে আমাদের সেরা ক্রিকেটই খেলতে হবে। তবে আমার মনে হয়, আমাদের স্পিন আক্রমণ ওদের চেয়ে ভালো। সব কন্ডিশনে বলব না, আমাদের দেশে ওদের চেয়ে আমরা ভালো।’

ক্যারিয়ারের ৫০তম টেস্টে এসে অস্ট্রেলিয়ার দেখা পেলেন সাকিব। অনেকটাই অভিষেকের রোমাঞ্চ ছুঁয়ে যাচ্ছে তার মনে, ‘এটা একটা রোমাঞ্চকর ব্যাপার। ওদের সঙ্গে নানা সময়ে ওয়ানডে বা টি২০ খেলেছি। টেস্ট এই প্রথম, এটা একটা রোমাঞ্চকর ব্যাপার। অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড টেস্টকে আলাদা মূল্যায়ন করে। এ রকম একটা দেশের সঙ্গে টেস্ট খেলা রোমাঞ্চকর।’ যদিও রোমাঞ্চে গা ভাসিয়ে দেয়ার কোনো সুযোগ দেখছেন না সাকিব। তার ভাষায়, ‘প্রথম টেস্ট খেলার সময় চিন্তা ছিল না যে কতটা খেলব, কতদিন খেলব। সে সময় একটা মজা ছিল। সেটা এখন নেই, তেমন না। কিন্তু এখন পরিবেশ অন্য রকম, দায়িত্ব; সবকিছুই আলাদা।’

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.