সুন্দরবন থেকে হারিয়ে যাবে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার

বাংলাদেশের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে সুন্দরবন এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়বে৷ কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রর বিষাক্ত গ্যাস দূষিত করবে জল, মাটি ও বায়ু৷ আর তার ফলে হারিয়ে যেতে পারে সুন্দরবনের ব়য়্যাল বেঙ্গল টাইগার আর ডলফিনও৷ ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসরত সুন্দরবন নিয়ে গবেষক জেসিকা লরেঞ্জ তাঁর এক ব্লগে এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন৷তার মতে, এখন থেকেই প্রভাব পড়তে শুরু করেছে৷

জেসিকা লরেঞ্চ তাঁর ব্লগে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের সুন্দরবন অঞ্চলে রয়েল বেঙ্গল টাইগার এবং নদীতে ইরাবতী ডলফিনের বসবাস হাজার বছর বছর ধরে৷ পাশাপাশি বাঘ আর ডলফিনের বাস পৃথিবীর বুকে একটি অনন্য ঘটনা৷ কিন্তু লোভের কারণে তাদের অস্তিত্ব আজ সংকটের মুখে৷’ আর এর জন্য তিনি দায়ী করেছেন রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রকে৷

তিনি জানান, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সুন্দরবন এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা পৃথিবীর গড় বৃদ্ধির তুলনায় ১০ গুণ বেশি হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ পরবর্তী ৮০ বছরে এখানে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১৩ ফুট বাড়বে৷ এর সঙ্গে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করে তুলবে৷”

বাংলাদেশের সুন্দরবন রক্ষা কমিটির মহাসচিব ড. আবদুল মতিনের কথায়, ‘‘কয়লা পুড়ে যখন বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে তখন কয়লা থেকে যে বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হবে, সেই গ্যাস এই এলাকার মাটি, জল ও বায়ু দূষিত করবে৷ কয়লার পারদ, সালফার, কার্বন পরিবেশ, জীবন এবং জীববৈচিত্র্যকে শেষ করে দেবে৷’
তিনি জানান, ‘‘এর প্রভাবে প্রথমে সুন্দরবনের গাছপালা ধ্বংস হবে৷ তারপর ধ্বংস হবে মৌমাছি ও প্রজাপতির মতো পতঙ্গ৷ আর বনের গাছপালা ধ্বংস হলে রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ অন্যান্য প্রাণীও বিলুপ্ত হবে৷”

আবদুল মতিন মনে করেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ঘিরে এরমধ্যেই সুন্দরবনের নদীতে জাহাজ চলাচল বেড়ে গিয়েছে৷ এই কারণে এরইমধ্যে জলজ প্রাণী সংকটের মুখে রয়েছে৷ কয়লা পোড়ানো শুরু হলে তার ছাই ও বিষাক্ত বর্জ্য নদীর জলকে দূষিত করবে৷ ফলে ডলফিনসহ জলজ প্রাণী বাঁচবে না৷”

বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবনের মাত্র চার কিলোমিটার এলাকার মধ্যে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে৷ অথচ ভারত কিন্তু ভারতীয় সুন্দরবন এলাকায় এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে পানেনি৷ কারণ সেখানে কোনও বনের ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বেআইনি৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.