স্মার্টফোনকে ছাড়িয়ে যাবে ফ্যাবলেটের সরবরাহ

বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারের প্রবৃদ্ধি অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। বাজারটিতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। কারণ গ্রাহকরা এখন বড় ডিসপ্লের মোবাইল ডিভাইস ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন। এক্ষেত্রে সাড়ে ৫ ইঞ্চির চেয়ে বড় ডিসপ্লের বা ফ্যাবলেট ডিভাইস বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০১৯ সালের মধ্যে ফ্যাবলেট ডিভাইস স্মার্টফোন সরবরাহকে ছাড়িয়ে যাবে বলে বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশন (আইডিসি) প্রকাশিত গত বুধবারের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। খবর এএফপি।

৫ দশমিক ৫ ইঞ্চি বা ১৪ সেন্টিমিটারের চেয়ে বড় ডিসপ্লের মোবাইল ডিভাইসকে ফ্যাবলেট বলা হয়।

আইডিসির তথ্যমতে, চলতি বছর  সামগ্রিকভাবে স্মার্টফোন ডিভাইস বিক্রি ১৫০ কোটি ইউনিটে পৌঁছাবে। এর মধ্যে ৪০ শতাংশ বা ৬১ কোটি ১০ লাখ ইউনিট থাকবে ফ্যাবলেট ডিভাইস।

এছাড়া আগামী দুই বছরের মধ্যে বৈশ্বিক বাজারে যে পরিমাণ স্মার্টফোন সরবরাহ হবে তার মধ্যে অর্ধেকের বেশি থাকবে ফ্যাবলেট ডিভাইস। আগামী চার বছরের মধ্যে ফ্যাবলেট ডিভাইস সরবরাহ বছরে শতকোটি ইউনিট ছাড়িয়ে যাবে।

চলতি বছর তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে ডিভাইস বিক্রি ৩ শতাংশ বেড়ে ৩৮ কোটি ৩০ লাখ ইউনিটে পৌঁছেছে, যা গত বছরের একই প্রান্তিকে বিক্রি হওয়া ৩৭ কোটি ২০ লাখ ইউনিটের চেয়ে বেশি। বর্তমান ভোক্তা চাহিদা বিবেচনা করে নির্মাতারা তুলনামূলক বড় ডিসপ্লের মোবাইল ডিভাইস আনতে গুরুত্ব দিচ্ছে।

আইডিসির গবেষকদের তথ্যমতে, ২০২১ সাল নাগাদ বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারের ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে এবং বার্ষিক ডিভাইস বিক্রি বেড়ে ১৭০ কোটি ইউনিটে পৌঁছাবে। তবে আগামী চার বছরে সামান্য যে প্রবৃদ্ধির আশা করা হচ্ছে, তার পুরোটাই আসবে ফ্যাবলেট ডিভাইস বিক্রি থেকে। কারণ এ সময়ের মধ্যে ডিভাইস বাজারে প্রচলিত হ্যান্ডসেট বা সাড়ে পাঁচ ইঞ্চির চেয়ে ছোট ডিসপ্লের ডিভাইস বিক্রি কমে যাবে।

আইডিসির বিশ্লেষক রায়ান রেইথ বলেন, গত কয়েক বছরে স্মার্টফোন বাজারে বেশকিছু পরিবর্তন হয়েছে। ইন্টারনেট সেবার সহজলভ্যতা এবং অনলাইন কনটেন্ট ব্যবহারের বাড়তি চাহিদা বড় ডিসপ্লের মোবাইল ডিভাইসের চাহিদা বাড়াচ্ছে। ২০১২ সালেও বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে যত সংখ্যক ডিভাইস বিক্রি হয়, তার মাত্র ১ শতাংশ ফ্যাবলেট ছিল। কয়েক বছরের মধ্যেই স্মার্টফোন ও ফ্যাবলেট সরবরাহ প্রায় সমানসংখ্যক ইউনিটে পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, মোবাইল ডিভাইসের মাধ্যমে বিনোদনের জন্য ভিডিও দেখা, গেমিং, সোস্যাল মিডিয়া এবং অন্যান্য ভারী সব অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার বাড়ছে। বিভিন্ন অনলাইন কনটেন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে ডিভাইস ডিসপ্লে এবং পছন্দের ডিভাইসে সেবার মান কেমন হবে, তা একটি বিষয় হয়ে উঠেছে। এ কারণে মোবাইল ডিভাইস কেনার আগে ডিসপ্লের আকার ও মান নিয়ে এখন বেশি ভাবছেন ক্রেতারা।

আইডিসির তথ্যমতে, আইফোন ক্রেতাদের মধ্যে বড় ডিসপ্লের স্মার্টফোনের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। চলতি বছর অ্যাপল যত সংখ্যক আইফোন বিক্রি করেছে তার ৪০ শতাংশই ছিল বড় ডিসপ্লের। আগামী বছর এ সংখ্যা ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। বড় ডিসপ্লের প্রিমিয়াম হ্যান্ডসেটের কারণে ডিভাইস বাজারে গড় মূল্য বৃদ্ধি পাবে।

আইডিসির গবেষণা ব্যবস্থাপক অ্যান্থনি স্কারসেলা বলেন, চলতি বছর বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে তুলনামূলক বেশি দামের কয়েকটি ডিভাইস উন্মোচন করা হয়েছে। এসব আল্ট্রা হাই-এন্ড ডিভাইস স্মার্টফোন বাজারের প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। স্যামসাং, অ্যাপল, গুগল, এলজি ও অন্যান্য ডিভাইস নির্মাতাদের সাম্প্রতিক ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসের মূল্য ৮৫০ ডলার বা তার চেয়ে কিছু বেশি। তবে আইফোনের দশকপূর্তি সংস্করণ আইফোন টেনের ভিত্তি মূল্য ৯৯৯ ডলার। র্যাম ও অভ্যন্তরীণ তথ্য সংরক্ষণের তারতম্যের কারণে এ ডিভাইসের জন্য সর্বোচ্চ ১৪০০ ডলার পর্যন্ত গুনতে হবে। ডিভাইসের মূল্যবৃদ্ধি হলেও ভোক্তাদের মধ্যে হাই-এন্ড ডিভাইস ব্যবহারের প্রবণতা দেখা গেছে।

আইডিসির তথ্যমতে, চলতি বছর স্মার্টফোন বাজারে অ্যান্ড্রয়েড চালিত ডিভাইসের অংশীদারিত্ব দাঁড়িয়েছে ৮৫ দশমিক ১ শতাংশ, যা আগামী চার বছরে কিছুটা বেড়ে ৮৫ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছাবে। চলতি বছর অ্যাপলের বাজার দখল পৌঁছেছে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ, যা আগামী চার বছরে কমে ১৪ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়াবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.