হিট স্ট্রোক

আমাদের শরীরের তাপমাত্রা প্রায় ৩৭ ℃। মানবদেহ সব সময় ভারসাম্য বজায় রাখতে চায়। শরীরের মধ্যে বিভিন্ন প্রক্রিয়াতে তাপ তৈরি হয়। শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ধরে রাখতে সেই তাপ শরীর নিজে থেকে বের করে বিভিন্ন প্রক্রিয়াতে, যেমন- ঘাম। গরমের সময় অতিরিক্ত ঘাম হওয়া শরীর এর নিজেকে স্বাভাবিক রাখার একটি প্রক্রিয়া মাত্র এবং এটি না থাকলে সামান্য গরমেই হয়ত মৃত্যু হত। কিন্তু যখন শরীর তার স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে পারে না তখন কি হবে? হিট স্ট্রোক? না, আসলে হিট স্ট্রোক হবার আগে আরও ধাপ রয়েছে।আসুন জেনে নিই।

হিট ক্র্যাম্প
এই সময় শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে।এটি প্রকাশ পাবে মাংস পেশী এর ব্যথা হিসাবে। এর কারণ হিসাবে রয়েছে মূলত- গরমে অতিরিক্ত ঘাম এবং মাত্রাতিরিক্ত ব্যায়াম। এই সময় শরীর থেকে পানি এবং লবণ বের হয়ে যাওয়ার কারণে মাংস পেশী তে ব্যথা শুরু হয়।ব্যথা টি এমন মনে হবে যেন মাংস পেশী তে মোচড় দিচ্ছে কেও অথবা ভারি কোন চাপ দিচ্ছে।
করণীয়- ১. ব্যায়াম/কাজ বন্ধ করে বিশ্রাম নিতে হবে।
২. ঠাণ্ডা পরিবেশে বিশ্রাম নিতে হবে।
৩. শুধু পানি খেলে রোগ টি আরও বাড়বে। পরিমিত পরিমাণে স্যালাইন খেয়ে লবণ এর ঘাটতি পূরণ করতে হবে।
৪. ব্যথা না যাওয়া পর্যন্ত ব্যায়াম/ ভারি কাজ না করা উত্তম।

হিট সিনকোপ-
এই ক্ষেত্রেও শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে।অতিরিক্ত গরমে মাথা ঘুরিয়ে পরে যাওয়া এর লক্ষণ। এই ক্ষেত্রে রোগীকে জোর করে দাঁড়ানো/ টানাটানি না করা ভালো। ঠাণ্ডা আবহাওয়া তে বিশ্রাম নিবেন এবং পানি পান করতে হবে। কিছু ক্ষণ বিশ্রাম নিলেই স্বাভাবিক হয়ে যায় এই ক্ষেত্রে।

হিট  এক্সজশন-
এই সময় শরীর আর নিজের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে পারে না। তাপমাত্রা ৩৭℃ থেকে বেড়ে ৪০ ℃ পর্যন্ত উঠে যায়। প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘক্ষণ ঘামের কারণে পানি এবং লবণ এর ঘাটতি হয় যা শরীর সহ্য করতে পারে না। এই সময় লক্ষণ হিসাবে দেখা দেয়

  • মাথা ব্যথা
  • পিপাসা
  • পানিশূন্যতা এর লক্ষণ
  • ক্লান্তি, দুর্বলতা
  • হৃদ স্পন্দন বেড়ে যাওয়া

এই ক্ষেত্রে রুগীকে ঠাণ্ডা কোন জায়গায় শুইয়ে দিতে হবে। প্রয়োজনে মাথা এর কাছে ফ্যান/ বাতাস দিতে হবে। সাথে মুখে/ শিরাপথে স্যালাইন এর প্রয়োজন হবে। এর সঠিক চিকিৎসা না করালে তা হিট স্ট্রোক এ পরিণত হবে।

হিট স্ট্রোক-
মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণের কারণে হওয়া স্ট্রোক এর সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। এটি হয় যখন শরীরের মূল তাপমাত্রা ৪০℃ এর উপর চলে যায়। এই ক্ষেত্রে মৃত্যু ঝুঁকি রয়েছে। এর লক্ষণ গুলো হলো

  • বমির ভাব/ বমি
  • মাথা ব্যথা
  • বিভ্রান্তি/ অজ্ঞ্যান হয়ে যাওয়া
  • অতন্ত গরম এবং শুষ্ক ত্বক। এই সময় ঘাম এর উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
  • জটিলতা হিসাবে কিডনি বিকল হয়ে যেতে পারে। এছাড়া যকৃত, ,মাংস পেশী এর ক্ষতি ও হতে পারে।

এই ক্ষেত্রে কি করণীয়?

  • রুগীকে ঠাণ্ডা জায়গায় শুইয়ে দিতে হবে। বোগল, পায়ে বরফ এর টুকরা/ ঠাণ্ডা পানির বোতল দেয়া যেতে পারে।
  • গায়ে,মুখে ঠাণ্ডা পানি ছিটাতে হবে।
  • পরিমিত পানি দিতে হবে। মনে রাখতে হবে এক সাথে প্রচুর পানি দেয়া যাবে না। ধীরে ধীরে অল্প অল্প করে পানি/ স্যালাইন খাওয়াতে হবে।
  • পটাসিয়াম সমৃদ্ধ পানি/খাবার যেমন ডাবের পানি দেয়া যাবে না।

প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসাপাতালে নিয়ে যেতে হবে।এই ক্ষেত্রে হাসপাতালে রেখে কোন জটিলতা হয়েছে কিনা অথবা যাতে না হয় সেই বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে।

সূত্র: ডক্টোরোলা ডট কম ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.