২০ মিনিটেই ঢাকা-গাজীপুর

গাজীপুর থেকে ঢাকা দ্রুত সময়ে যাতায়াতের জন্য পৃথক দুটি লেনে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) নামে আলাদা বাস যাওয়া আসা করবে। এতে গাজীপুর থেকে ঢাকার বিমানবন্দর পর্যন্ত ৪০ মিনিটে যাওয়া আসা সম্ভব হবে। এজন্য র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) আইন, ২০১৬-এর খসড়া গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে আইনটি নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। অনুমোদিত আইনে লাইসেন্স ছাড়া বিআরটি (বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট) পরিচালনা করলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের জেল বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, এ আইনে ৫৩ ধারা ও ১০টি অধ্যায় রয়েছে। এ আইনের অধীনে সংঘটিত অপরাধের জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনারও এখতিয়ার রাখা হয়েছে। একটি কর্তৃপক্ষের অধীনে বিআরটি পরিচালিত হবে। কর্তৃপক্ষ বলতে ঢাকায় বোঝাবে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। ডিটিসিএ’র নির্বাহী পরিচালক এখানে নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বিআরটি নির্মাণের পর ২০ মিনিটের মধ্যে গাজীপুর থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত যাতায়াত করা যাবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, লাইসেন্স ছাড়া বিআরটি নির্মাণ, উন্নয়ন বা পরিচালনা করলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে আইনে। অনুমোদন ছাড়া লাইসেন্স হস্তান্তরের এবং অননুমোদিতভাবে বিআরটিএর টিকিট বা পাস বিক্রি, এমনকি টিকিট বা পাস জাল করলেও শাস্তি পেতে হবে। উভয়ক্ষেত্রে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডের কথা বলা হয়েছে খসড়া আইনে। তিনি বলেন, কর্মচারীরা বিআরটির যন্ত্রপাতি অপব্যবহার করলে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড বা ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। খসড়া আইনে মানবিক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, দুর্ঘটনাজনিত কারণে ক্ষতিপূরণ ও বীমার ব্যবস্থা রয়েছে। বিআরটি পরিচালনার সময় যদি দুর্ঘটনার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি আঘাতপ্রাপ্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত হন বা আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মারা যান, তাহলে লাইসেন্স গ্রহীতা ক্ষতিগ্রস্ত বা ক্ষতিগ্রস্তের পরিবারকে নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে। মন্ত্রী পরিষদ সচিব বলেন, এ আইনে দুর্ঘটনার জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া ভাড়া নির্ধারণের জন্য সাত সদস্যের কমিটি থাকবে। তারা যাচাই বাছাই করে ভাড়া নির্ধারণ করবেন। তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিতে বিআরটির লাইসেন্সধারী নিকটস্থ চিকিৎসাকেন্দ্র বা হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে। আহত ব্যক্তি যদি নিজ উদ্যোগে চিকিৎসা গ্রহণ করেন তবে লাইসেন্স গ্রহীতা প্রবিধান নির্ধারিত পদ্ধতি ও পরিমাণ খরচ পরিশোধ করতে বাধ্য থাকবে। এছাড়া খসড়া আইন অনুযায়ী বিআরটি লাইসেন্স গ্রহীতা দুর্ঘটনার সময় তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থাকে জানাবে ও দুর্ঘটনা সম্পর্কিত প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করবে। আইন অনুযায়ী বিআরটি’র যাত্রীদের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে বীমা করতে হবে জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, ক্ষতিপূরণ দাবির ৯০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায় করে দেবে। ভাড়া নির্ধারণের জন্য সময় সময় সরকার কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেবে জানিয়ে মন্ত্রী পরিষদ সচিব বলেন, সরকারের অনুমোদন নিয়ে কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের ভাড়ার হার নির্ধারণ করবে। ভাড়া নির্ধারণের জন্য সাত সদস্যের একটি কমিটিও থাকবে। যাত্রী পরিবহন সংক্রান্ত তথ্য কর্তৃপক্ষ তাদের ওয়েবসাইটে ও বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ করবে।

বিআরটি’র প্রতিটি কোচে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, মহিলা, শিশু, প্রবীণদের জন্য আসন সংরক্ষণ করা হবে। তিনি বলেন, বিআরটি’র জন্য ভূমি অধিগ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে। অধিগ্রহণ হতে পারে এমন স্থানে রাতারাতি স্থাপনা নির্মাণ হলে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে না। এয়ারপোর্ট থেকে গাজীপুর পর্যন্ত ছয় লেনের রাস্তায় দুটি লেন হবে বিআরটি’র জন্য। ২০১২ সালে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিআরটি’র মাধ্যমে গাজীপুর থেকে এয়ারপোর্ট আসতে সময় লাগবে ৪০ মিনিট। প্রতি ঘণ্টায় উভয় দিকে ৪০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা যাবে। বিআরটি স্টেশন সংখ্যা হবে ২৫টি, বাসের সংখ্যা হবে ১৪০টি। বিআরটি প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ২০১৭ সালে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এর আগে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছিলেন, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হলে এ রুটে বিআরটির বাস প্রতি ঘণ্টায় উভয়দিক থেকে ৪০ হাজার যাত্রী পরিবহন শুরু করবে। বিআরটি বাসের সংখ্যা হবে ১৪০টি। ভ্রমণ সময় হবে ৪০ মিনিট (গাজীপুর থেকে এয়ারপোর্ট)। স্টেশন সংখ্যা হবে ২৫টি।
এদিকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বোনাস ও ভাতা আইনে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। এজন্য ‘সুপ্রিম কোর্ট জাজেস (রিমিউনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০১৬’ খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রী পরিষদ সচিব বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের উৎসব ভাতা দেয়া হয় সার্কুলারের মাধ্যমে, যা তাদের আইনে নেই। এ বছর থেকে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে নববর্ষ ভাতা দেয়া হবে সব সরকারি কর্মচারীকে। এটাও সার্কুলারের মাধ্যমে তারা (বিচারপতিরা) পাবেন। তিনি বলেন, বিচারপতিরা অনুরোধ করেছেন আইনের মাধ্যমেই আমার বেতন পাই। আমাদের ভাতাগুলোও যেন আইনে আসে। এজন্য ঈদ বোনাস ও নববর্ষ ভাতার বিষয়টি সংযোজন করে এ আইনটি আনা হয়েছে। এদিকে পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে কারিগরি সহায়তার জন্য ভারতের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য এ সংক্রান্ত খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেবে ভারত। এছাড়া শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারে ভারতের কাছ থেকে প্রযুক্তি ধার নিতে পারবো।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.